স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি, ট্রেন–সড়কপথে বাধার অভিযোগ, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অনড় আশাকর্মীরা
আশাকর্মীদের আন্দোলনে উত্তাল রাজ্য। জেলায় জেলায় বিক্ষোভের পাশাপাশি কলকাতামুখী আশাকর্মীদের ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আশাকর্মীদের বিক্ষোভের জেরে স্বাস্থ্যভবন চত্বর কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অশান্তির আশঙ্কায় স্বাস্থ্যভবন জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধর্মতলা অভিমুখে রওনা দেওয়া আশাকর্মীদের একাধিক জায়গায় বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অনেক আশাকর্মী রাস্তায় বসেই বিক্ষোভে শামিল হন।
আন্দোলনরত আশাকর্মীদের একাংশের স্পষ্ট দাবি,
“যতই আমাদের আটকানো হোক, আমরা দেখব সরকার আমাদের জন্য কী করে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই বসে থাকব।”
বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আশাকর্মীদের ট্রেনে উঠতেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শিয়ালদহ স্টেশনের ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে বহু আশাকর্মীকে আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি সেক্টর ফাইভ এলাকাতেও আশাকর্মীদের একাংশকে আটকে দেওয়ার খবর মিলেছে।
গত ৩০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন আশাকর্মীরা। সোমবার সকাল থেকেই ধর্মতলামুখী মিছিলের চেষ্টা করেন তারা। তবে GRP-র বিরুদ্ধে একাধিক জায়গায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন আশাকর্মীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।
আন্দোলনরত আশাকর্মীদের অভিযোগ,
* মেদিনীপুর স্টেশনে বাধা দেওয়া হয়েছে
* বেলদা স্টেশনের বাইরে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে
* কাটোয়া স্টেশনে একাংশকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে
* বাঁকুড়া স্টেশনে আশাকর্মীদের আটকে দেওয়া হয়
কিছু জায়গায় ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন আশাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, “পুলিশের বাধা মানব না। আশাকর্মীদের পোশাক দেখলেই আটক করা হচ্ছে।”
শুধু রেলপথ নয়, সড়কপথেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। কলকাতায় গাড়িতে করে আসতে চাইলেও গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠে।
বর্তমানে আশাকর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক ৫,২৫০ টাকা। তা বাড়িয়ে ১৫,০০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন চলছে। এই দাবি নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকের ডাক থাকলেও, বৈঠকে পৌঁছানোর আগেই একাধিক জায়গায় আশাকর্মীদের আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

