ভারতের বিপর্যয় মোকাবিলা ও আপৎকালীন উদ্ধারকাজের অতন্দ্র প্রহরী জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) তাদের ২১ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করছে। এই বিশেষ দিনে দেশজুড়ে বাহিনীর জওয়ানদের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
![]() |
| National Disaster Response Force |
![]() |
| NDRF 21th Foundation Day |
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত দুই দশকে এনডিআরএফ শুধু ভারতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরেও দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি মানদণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০০৬ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সময় বিশেষায়িত উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং দক্ষ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। বর্তমানে ১২টি ব্যাটালিয়ন নিয়ে গঠিত এই বাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন থাকে। তুরস্কের ভূমিকম্প থেকে শুরু করে উড়িষ্যার ঘূর্ণিঝড় কিংবা হিমাচলের ধস—বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে জওয়ানদের কমলা রঙের পোশাক সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার প্রতীক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশ বিভুঁইয়ে (যেমন তুরস্ক বা নেপাল) উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বাহিনীটি আন্তর্জাতিক মহল থেকে ব্যাপক সম্মান অর্জন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর x পোস্টে বাহিনীর কর্মতৎপরতার চারটি ছবি শেয়ার করে লেখেন "জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-এর রেইজিং ডে উপলক্ষে, সংকটের মুহূর্তে যাঁদের পেশাদারিত্ব ও দৃঢ় সংকল্প অটলভাবে সামনে এসে দাঁড়ায়, সেই সাহসী নারী-পুরুষদের প্রতি আমরা আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
যেকোনো দুর্যোগ আঘাত হানলেই NDRF কর্মীরা সর্বাগ্রে উপস্থিত থাকেন—নিরলস পরিশ্রমে মানুষের জীবন রক্ষা করেন, ত্রাণ পৌঁছে দেন এবং সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও আশার আলো ফিরিয়ে আনেন। তাঁদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধ সেবার সর্বোচ্চ মানের প্রতিফলন।
বছরের পর বছর ধরে NDRF দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মোকাবিলায় এক অনন্য মানদণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক সম্মান অর্জন করেছে।"
এবারের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বাহিনীর সদর দপ্তরে বিশেষ কুচকাওয়াজ ও মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এনডিআরএফ-এর মহানির্দেশক (DG) জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ধারকাজকে আরও নিখুঁত ও দ্রুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘আপদ সেবা হি ধর্ম’—এই মন্ত্রকে পাথেয় করেই আগামী দিনেও দেশবাসীর সেবায় নিয়োজিত থাকার অঙ্গীকার করেছেন বাহিনীর সদস্যরা।


