ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় শিশুদের পাশে শাকিরা, ১০টি স্কুল পুনর্গঠনের বড় উদ্যোগ
ভূমিকম্পে স্কুল হারানো শিশুদের জন্য শাকিরার বড় ঘোষণা, কলম্বিয়ায় গড়বেন ১০টি স্কুল
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের শিক্ষাজীবন দ্রুত স্বাভাবিক করতে বড় উদ্যোগ নিলেন আন্তর্জাতিক পপ তারকা শাকিরা (Shakira)। ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত চোকো (Chocó) অঞ্চলে অন্তত ১০টি স্কুল পুনর্নির্মাণে সহায়তার ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত Universidad Tecnológica del Chocó বা চোকোর টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পুনর্গঠনের কাজেও যুক্ত হচ্ছেন এই কলম্বিয়ান তারকা। তাঁর দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক সংস্থা Pies Descalzos Foundation এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
গত ১০ আগস্ট পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল চোকো বিভাগের San José del Palmar এলাকার কাছে। পরবর্তী সময়ে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্পষ্ট হতে শুরু করে। Associated Press-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ২৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২৬ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২৬৫টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই দুর্যোগে প্রভাবিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার চোকোর রাজধানী কিবদো (Quibdó) সফর করেন শাকিরা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন শিল্পপতি ও সমাজসেবী হাওয়ার্ড বাফেট। দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষয়ক্ষতি এবং শিশুদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরেই চোকোর পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করে আসছে শাকিরার Pies Descalzos Foundation। ফলে ভূমিকম্পের পর শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগে তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শাকিরার ঘোষণার মূল লক্ষ্য, ভূমিকম্পের ধাক্কায় স্কুল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের দ্রুত শিক্ষার পরিবেশে ফিরিয়ে আনা। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা পরিকাঠামো পুনর্গঠনের পাশাপাশি নতুন স্কুল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে চোকোর টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পুনর্গঠনের কাজেও সহায়তা করার কথা জানিয়েছেন শাকিরা।
এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও ইতিমধ্যে যুক্ত হয়েছে। Associated Press জানিয়েছে, FIFA Global Citizen Education Fund এবং Live Nation প্রত্যেকে ৫ লক্ষ ডলার করে এবং CAF Development Bank ২.৫ লক্ষ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষা পুনর্গঠনের জন্য ঘোষিত সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত ১২.৫ লক্ষ ডলার।
শাকিরার এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক সাহায্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে দুর্যোগের পর শিশুদের দ্রুত স্কুলে ফেরানো এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখা। বিশেষ করে চোকোর মতো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে স্কুল ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন স্থানীয় শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে থেকেই শিক্ষা ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করে আসছেন শাকিরা। তাঁর Pies Descalzos Foundation দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কলম্বিয়ার বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া এলাকায় শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তার প্রকল্প পরিচালনা করছে। ভূমিকম্পের পর সেই কাজই এবার আরও বড় পরিসরে সামনে এসেছে।
ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি এখন শুরু হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের পর্ব। সেই প্রক্রিয়ায় শাকিরার উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে। তবে ভয়াবহ দুর্যোগের পর শিশুদের হাতে আবার বই-খাতা তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

