নিউজ ইন্ডিয়া লাইফস্টাইল ডেস্ক : বর্তমান সময়েও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে অনেকেই অস্বস্তি বোধ করেন। এখনও সমাজের একটি বড় অংশ যৌনতা নিয়ে কথা বলাকে অশ্লীলতার চোখে দেখে, যার অন্যতম কারণ হলো সঠিক যৌনশিক্ষার অভাব। খোলামেলা আলোচনা শুরু হলেই অনেক সময় রক্ষণশীল মনোভাব থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে অনেকেই গোপনে যৌনতা বিষয়ক কনটেন্ট দেখলেও প্রকাশ্যে এই বিষয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। অথচ যৌনতা মানুষের স্বাভাবিক জীবনেরই একটি অংশ।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত মানুষের যৌন ইচ্ছা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। গবেষণা অনুযায়ী, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সে পুরুষ ও নারী উভয়ের যৌন আকাঙ্ক্ষা তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ থাকে। এই সময় শারীরিক সক্ষমতা ও হরমোনের ভারসাম্য যৌন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেকের ক্ষেত্রে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন, হরমোনজনিত পরিবর্তন ও অন্যান্য যৌন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে যৌনতার চেয়ে যৌনসংক্রান্ত সমস্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন উপভোগ শুধুমাত্র বয়সের ওপর নির্ভরশীল নয়। কেউ ২০ বছর বয়সে যেমন সুস্থ যৌন জীবন উপভোগ করতে পারেন, তেমনই কেউ ৫০ বছর বয়সেও পরিপূর্ণ যৌন তৃপ্তি অনুভব করতে পারেন। এখানে বয়সের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা ও জীবনযাত্রার মান।
গবেষণা বলছে, একজন ব্যক্তির যৌন তৃপ্তি নির্ভর করে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতা কিছুটা কমলেও, সঠিক জীবনযাপন ও সচেতনতার মাধ্যমে যেকোন বয়সেই সুস্থ যৌন জীবন বজায় রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌনতা সম্পর্কে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান থাকলে যৌন জীবন সংক্রান্ত নানা সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে। পারস্পরিক বোঝাপড়া, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে যেকোন বয়সেই একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ যৌন জীবন বজায় রাখা সম্ভব।


